নিভে গেল আইনের বাতিঘর

দীর্ঘ ৬০ বছর ধরে আলো ছড়িয়েছেন আইন পেশায়। ছিলেন আইনের শাসনের প্রতি আপসহীন। ভয়ভীতি উপেক্ষা করে ন্যায়ের পথে ছিলেন সারা জীবন।

পেশাগত জীবনে অত্যন্ত সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ও খ্যাতিমান আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হক।

গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ও আইনি বিষয় নিয়ে তিনি আদালতকে সবসময় সহযোগিতা করেছেন। সর্বজন শ্রদ্ধেয় এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যারিস্টার রফিক উল হক একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছিলেন।

প্রয়াত ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের সামাজিক পরিচয় ছিল আইনের প্রাজ্ঞ বিচারক হিসেবে। একজন মানবতাবাদী আইনজীবী হিসেবেও তার বিশেষ খ্যাতি ছিল।

তবু সবকিছু ছাপিয়ে তার মানবিক ও সেবা-মনোভাবের অসামান্য গুণটি সামনে চলে আসে। তিনি তার জীবনের আয়ের সিংহভাগ ব্যয় করেছেন মানুষের কল্যাণে।

তাঁর জীবনের বড় ইচ্ছাই ছিল মানুষের সেবা করা; সেই লক্ষ্য থেকেই প্রতিষ্ঠা করেছেন বেশ কয়েকটি হাসপাতাল, এতিমখানা, মসজিদ ও মেডিকেল কলেজ।

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে একটি ১০০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণ করছেন। এছাড়া ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠা করেছেন সুবর্ণ ক্লিনিক; ঢাকা শিশু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠায়ও ভূমিকা রাখেন তিনি।

বারডেম হাসপাতালের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ ও নূরজাহান ওয়ার্ড, আহছানিয়া মিশন ক্যান্সার হাসপাতালের চেয়ারম্যান, আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চেয়ারম্যান ছিলেন রফিক-উল হক।

আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ ২৫টিরও বেশি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তিনি সরাসরি জড়িত। বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানে আর্থিক অনুদানসহ নানা সহযোগিতা দিয়ে গেছেন।

ব্যারিস্টার রফিক উল হকের জন্ম ১৯৩৫ সালের ২ নভেম্বর কলকাতার সুবর্ণপুর গ্রামে। ১৯৫৫ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক, ১৯৫৭ সালে দর্শন বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।

১৯৫৮ সালে এলএলবি পাশ করেন। ১৯৬২ সালে যুক্তরাজ্য থেকে বার অ্যাট ল’ সম্পন্ন করেন।

১৯৬৫ সালে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে এবং ১৯৭৩ সালে আপিল বিভাগে আইনজীবী হিসেবে আইন পেশা শুরু করেন।

১৯৯০ সালের ৭ এপ্রিল থেকে ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা তথা অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন প্রয়াত এই আইনজীবী।

কিন্তু অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে কোনো সম্মানী নেননি সদ্য প্রয়াত এ আইনজীবী। পেশাগত জীবনে তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গেও সম্পৃক্ত হননি।

বিগত সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে মুক্ত করতে আইনি লড়াই করেন তিনি।

দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও ভাবমূর্তি রক্ষায় বরাবরই সোচ্চার ছিলেন রফিক-উল হক। দেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ও আইনি বিষয় নিয়ে সরকারকে সহযোগিতা করেছেন বর্ষীয়ান এই আইনজীবী।

২০২০ সালের ২৪ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর আদ-দ্বীন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিভে গেল আইনের বাতিঘর।

আইনের শাসন এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় তার অবদান অনস্বীকার্য। তাঁর মৃত্যুতে দেশের আইন অঙ্গনে বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি হলো। বাংলাদেশের আইন পেশায় তার অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

পরের সংবাদ

বিচারকের দায়িত্ব এবাদত: বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন

রবি নভে ৮ , ২০২০
বিচারকের দায়িত্ব এবাদত বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ‘ড্রাফটিং স্কিল’ শীর্ষক সেমিনারে বিচারক ও আইনজীবীদের দায়িত্ব-কর্তব্য নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।      Share on Facebook Tweet it Email
SCBA Seminar on "Drafting skills"