দুর্নীতিগ্রস্তদের বিরুদ্ধে অনতিবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি মেয়র তাপসের

দুর্নীতিগ্রস্তদের বিরুদ্ধে অনতিবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। তিনি বলেন, যারা ভালো কাজ করবেন, যারা আন্তরিকতা-নিষ্ঠা ও সততার সাথে দায়িত্ব পালন করবেন, আমরা তাদেরকে অবশ্যই মূল্যায়ন করবো। আর যারা দুর্নীতিগ্রস্ত থাকবেন, তাদের বিরুদ্ধে অনতিবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নগর ভবনে ডিএসসিসি’র আওতাধীন সকল কর কর্মকর্তা, উপ-কর কর্মকর্তা, ট্রেড লাইসেন্স-বিজ্ঞাপন-বাজার সুপারভাইজার, রাজস্ব সহকারী, রাজস্ব বিভাগের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাথে মতবিনিময়কালে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) তিনি এসব কথা বলেন।

ডিএসসিসিকে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ও মর্যাদাশীল সংস্থা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, আপনারা জনবল সংকটসহ অনেক সমস্যা ও সংকটের কথা বলেছেন। খুব খুশি হতাম, যদি আপনারা বলতেন, ডিএসসিসি’র মর্যাদা ফিরিয়ে আনতে আপনারা নিরলসভাবে পরিশ্রম করবেন। আপনারা কেউ সেটা বলেননি। মনে রাখতে হবে, প্রতিকূলতা বিহীন কোনো যাত্রা পথ নেই। তাই, আগে কিভাবে চলছে, আমি সেদিকে ফিরে যেতে চাই না।

এসময় মেয়র আরও বলেন, আমার সংস্থায় আমি ভিক্ষা করে চলতে চাই না। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা দেওয়ার পরে সেই যুদ্ধ-বিধ্বস্ত অবস্থাতেই বলেছিলেন, আমি ভিক্ষুকের জাতি চাই না। আমি চাই বাংলাদেশ স্বয়ং সম্পূর্ণ হোক। তেমনি আমার লক্ষ্য থাকবে, জাতির পিতার সেই স্বপ্ন ও প্রধানমন্ত্রীর রূপকল্প বাস্তবায়নে ডিএসসিসিকে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ও মর্যাদাশীল সংস্থা হিসেবে গড়ে তোলা।

দুষ্টের দমন সৃষ্টের লালন অব্যাহত থাকবে উল্লেখ করে মেয়র তাপস বলেন, যারা ভালো কাজ করবেন, যারা আন্তরিকতা-নিষ্ঠা ও সততার সাথে দায়িত্ব পালন করবেন, আমরা তাদেরকে অবশ্যই মূল্যায়ন করবো। আর যারা দুর্নীতিগ্রস্ত থাকবেন, তাদের বিরুদ্ধে অনতিবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তাদেরকে অপসারণ করা হতে পারে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে। এ ব্যাপারে কোনো রকম ছাড় দেওয়ার প্রশ্ন তো নেই, এ ব্যাপারে কোনো অলসতাও বরদাস্ত করা হবে না।

কর কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, এখন থেকে সকল উপ-কর কর্মকর্তারা প্রতিদিন কর কর্মকর্তাদের নিকট দৈনন্দিন পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেবেন। কে কোথায় কি কাজ করেছে? কত আদায় হয়েছে, আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা কতটুকু অর্জিত হয়েছে ও কতটুকু হয়নি? এসব তথ্য প্রতিবেদনে থাকতে হবে। এরপর সকল কর কর্মকর্তারা সপ্তাহের প্রতি বৃহস্পতিবার প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তার নিকট তাদের কাজের পরিপূর্ণ প্রতিবেদন দাখিল করবেন। কাজ করতে গিয়ে কোথাও কোনো সমস্যা হলে তা প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তার মাধ্যমে আমাদেরকে অবহিত করবেন। আমরা চেষ্টা করব তার তাৎক্ষণিক সমাধান দিতে। কোথাও গিয়ে কারো বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা, গাফিলতি পরিলক্ষিত হলে, সে সময় কোনো অজুহাত চলবে না। তখন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

সভায় প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আরিফুল হকের সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন ডিএসসিসি’র নবনিযুক্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবিএম আমিন উল্লাহ নুরী, সচিব আকরামুজ্জামানসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

Leave a Reply

পরের সংবাদ

নতুন সড়ক পরিবহন আইনে একদিনে ১২৩ মামলা

বুধ সেপ্টে ৯ , ২০২০
গণপরিবহনের নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে রাজধানী ঢাকা ও বন্দর নগরী চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় ১১টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। অভিযান চলাকালে নতুন সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী ১২৩টি মামলায় এক লাখ ৩৭ হাজার ৮০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। পাশাপাশি ৩৪টি যানবাহনের কাগজপত্র জব্দ করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার […]