বাড়ি বিক্রির টাকা জমা হয়েছিল সাবেক প্রধান বিচারপতি সিনহার একাউন্টে

বাড়ি বিক্রির টাকা জমা হয়েছিল সাবেক প্রধান বিচারপতি সিনহার একাউন্টে

উত্তরার ৬ নম্বর সেক্টরের ছয়তলা বাড়ি বিক্রির মূল্য পরিশোধ বাবদ সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার একাউন্টে ৪ কোটি টাকা পে-অর্ডার করেছে দুই ব্যবসায়ী। ওই দুই ব্যবসায়ী মো. শাহজাহান ও নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা বাড়ি বিক্রির দলিলসহ এ সংক্রান্ত ১৭১ পৃষ্ঠার নথিপত্র গতকাল রোববার (৬ মে) দুর্নীতি দমন কমিশনে জমা দিয়েছেন বলে তাদের আইনজীবী জানিয়েছেন।

দুদকের তলবি নোটিশে গতকাল ওই দুই ব্যবসায়ী এবং তাদের দুজন আইনজীবী সকাল ৯টায় দুদক কার্যালয়ে আসেন। দুদকে ব্যবসায়ী দুজনের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হলে তাদের আইনজীবী কার্যালয়ের বাইরে অবস্থান করেন।

এর আগে ফারমার্স ব্যাংকে ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে ঋণ অ্যাকাউন্ট খোলা এবং ওই অ্যাকাউন্ট থেকে পে-অর্ডারের মাধ্যমে এক ‘গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির’ ব্যাংক হিসাবে চার কোটি টাকা জমা দেওয়ার অভিযোগে গত ২৫ এপ্রিল তাদের তলব করে দুদক নোটিশ পাঠায়। দুদক থেকে পাঠানো ওই দুটি নোটিশে তাদের অ্যাকাউন্ট থেকে ‘রাষ্ট্রের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির’ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর অভিযোগ উল্লেখ করা হলেও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়নি। কমিশনের কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। দুদকের নোটিশে গুরুত্বপূর্ণ ওই ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা না হলেও তিনি সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা বলে উল্লেখ করে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর এসেছে।

এ দিকে, দুদক কার্যালয়ের বাইরে ব্যবসায়ী মো. শাহজাহান ও নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা আইনজীবী আফাজ মাহমুদ রুবেল ও নামজুল আলম পৃথকভাবে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ দুই আইনজীবী জানান, ব্যবসায়ী মো. শাহজাহান ও নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা শ্রান্তি রায় ও রঞ্জিত রায়কে সহায়তা করতে এই টাকা এস কে সিনহার অ্যাকাউন্টে পাঠিয়েছেন। তারা আরো বলেন, শ্রান্তি রায় সাবেক প্রধান বিচারপতির পিএস রঞ্জিতের স্ত্রী। ২০১৬ সালের শুরু দিকে এস কে সিনহার উত্তরার ৬ নম্বর সেক্টরের ছয়তলা বাড়িটি টাঙ্গাইলের বাসিন্দা শ্রান্তি রায় ছয় কোটি টাকায় কেনার জন্য বায়না করেন। বাড়িটি বায়না করার পর হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনের ৫৫ লাখ টাকা এবং বাড়ি নির্মাণের সময় নেওয়া আরো ১ কোটি ৪০ লাখসহ মোট ১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়। এ কারণে বাড়ির মূল্যের বাকি চার কোটি টাকা এসকে সিনহার কাছে পরিশোধ করা হয়। ওই টাকা ২০১৬ সালের ৮ নভেম্বর দুটি পে-অর্ডারের মাধ্যমে এস কে সিনহা সোনালী ব্যাংক সুপ্রিম কোর্ট শাখায় পাঠানো হয়। পরে ২৪ নভেম্বর হস্তান্তর দলিলের মাধ্যমে বাড়িটি শ্রান্তি রায় বুঝে নেন।

তবে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে নিরঞ্জন সাংবাদিকদের বলেন, তিনি কৃষিকাজ করেন। চাচার কথামতো রঞ্জিতকে সহায়তার জন্য তিনি ঋণ নিয়েছেন। এই ঋণের টাকা রঞ্জিত ব্যবহার করেছে। অপর দিকে শাহজাহান জানান, রঞ্জিত তার বন্ধু। টাঙ্গাইলের ধরবাড়ী এলাকায় তার দোকান রয়েছে। রঞ্জিতের কথামতো ঋণ নিয়ে তাকে দিয়ে দিয়েছেন।

অপর দিকে দুদক সূত্র জানায়, গতকাল সকাল ৯ টায় এ দুই ব্যবসায়ী দুদক কার্যালয়ে হাজির হন। এরপর থেকে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। দুদকের পরিচালক ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা সৈয়দ ইকবাল হোসেন দুই ব্যবসায়ীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের ব্যাপারে দুদকের উপ-পরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রনব কুমার ভট্টাচার্য্য ইত্তেফাককে বলেন, নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা এবং মো. শাহজাহান ফারমার্স ব্যাংকে ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে চার কোটি টাকা ঋণ অ্যাকাউন্ট খোলে। তা ছাড়া তাদের দুজনের ব্যাংক হিসাব থেকে ‘অস্বাভাবিক’ লেনদেন করা হয়েছে। সে ব্যাপারে অনুসন্ধান করতে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

ফেইজবুক থেকে পাঠকের মন্তব্য

আপনার জন্য নির্বাচিত

পুলিশ-শিক্ষার্থী সংঘর্ষ মামলার প্রতিবেদন ১৭ জুলাই

রাজধানীর শাহবাগে রুটিনসহ পরীক্ষার তারিখ ঘোষণার দাবিতে ঢাকা