নওগাঁয় আইনজীবীদের উপর পুলিশের হামলা, গুলিবর্ষণের চেষ্টা!

নওগাঁয় আইনজীবীদের উপর পুলিশের হামলা

নওগাঁ আদালত চত্ত্বরে পুলিশ কর্তৃক আইনজীবীকে মারধরের প্রতিবাদে সব ধরনের বিচারিক আদালতে কর্ম বিরতি ঘোষণা করেছেন সেখানকার আইনজীবীরা।

ভুক্তভোগী আইনজীবী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা সাংবাদিকদের জানান, গত ১ ফেব্রুয়ারী সোমবার সকাল আনুমানিক ১০টার সময় আইনজীবী মুরাদ হোসেন রিক্সা নিয়ে আদালত চত্ত্বরে প্রবেশের সময় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য রিক্সা প্রবেশে বাধা প্রদান করে।

সে সময় পুলিশের সাথে বাক- বিতণ্ডার এক পর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা অতর্কিতভাবে উক্ত আইনজীবীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। পুলিশের এই বর্বরোচিত আক্রমন থেকে উক্ত আইনজীবীকে রক্ষার জন্য অন্যান্য আইনজীবীরা এগিয়ে আসলে পুলিশ তাদের ওপরও আক্রমন চালায়।

পুলিশের আঘাতে ঘটনাস্থলে মুরাদ হোসেন ও শাহ আলম সহ কয়েকজন আইনজীবী আহত হন।

সে সময় পুলিশ আইনজীবীদের লক্ষ্য করে গুলি তাক করতেও দেখা যায়। পরবর্তীতে জেলা এডভোকেট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি খোদাদাদ খান (পিটু)র তত্ত্বাবধানে ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আসে।

ঘটনার প্রতিবাদে তাৎক্ষণিকভাবে আইনজীবীরা আদালত চত্ত্বরে বিক্ষোভ মিছিল বের করে।

বিক্ষোভ মিছিল শেষে জেলা বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি খোদাদাদ খান পিটু’র সভাপতিত্বে এক জরুরী সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় বারের বিজ্ঞ সদস্যরা মতামত ব্যক্ত করেন।

জরুরী সাধারণ সভায় গত সোমবার ও আজ মঙ্গলবার সকল প্রকার আদালতের কার্যক্রমে আইনজীবীরা অংশগ্রহণ না করার ঘোষণা দেন।

একই সাথে উক্ত সভায় আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে দায়ী পুলিশ সদস্যদের বরখাস্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনে আহবান জানানো হয়।

অন্যথায় আজ মঙ্গলবার জরুরী সাধারণ সভার মাধ্যমে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহনের ঘোষণা প্রদান করা হবে বলে জানানো হয়।

সভায় ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি, আইন মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান, আইজিপি, ডিআইজি সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর পত্র প্রেরণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

একই সাথে ঘটনার তথ্যানুসন্ধানের জন্য একটি তথ্যানুসন্ধান দল গঠন করা হয়।

এদিকে আদালত চত্ত্বরে আইনজীবীকে মারধরের ঘটনায় বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব হিউম্যান রাইটস (বিআইএইচআর), জাস্টিসমেকার্স বাংলাদেশ এবং লইয়ার্স ফর লইয়ার্স বাংলাদেশ যৌথ বিবৃতিতে গভীরভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

বিবৃতিতে বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব হিউম্যান রাইটস (বিআইএইচআর) এর সেক্রেটারি জেনারেল মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবী শাহানূর ইসলাম সৈকত অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক উক্ত ঘটনায় দায়ী সকল পুলিশ সদস্যকে চিহ্নিতপূর্বক ফৌজদারি বিচারে সোপর্দ করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের আহবান জানিয়েছেন।

একইসাথে তিনি ভুক্তভোগী ও তার পরিবার সহ সকল আইনজীবী, আইনজীবী সহকারী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর আহবান জানিয়েছেন।

পাশাপাশি ইউএন প্রিন্সিপল অন রোল অব লইয়ার এর আলোকে আইনিজীবীদের পেশাগত স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের আহবান জানিয়েছেন এডভোকেট শাহানূর ইসলাম সৈকত!

লন্ডনভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন রাইটস ফার্স্ট ইন্টারন্যাশনালের পক্ষ থেকে সংগঠনের সমন্বয়ক এডভোকেট শাহ আলম ফারুক নওগাঁয় আইনজীবীদের পুলিশের মারধর এবং সম্প্রতি কুষ্টিয়ায় এসপি কর্তৃক জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের উপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন কুষ্টিয়ার এই এসপি পূর্বেও মেজিস্ট্রেট ও সাংবাদিকদের উপর চড়াও হয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে এবং নজিরবিহীনভাবে হেফাজতে পুলিশের নির্যাতনের বিষয়ে আনীত একটি মামলায় ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক দেয়া প্রাথমিক আদেশ পরিবর্তন করতে বাধ্য করেছিলেন। কুষ্টিয়ার ঘটনায় হাইকোর্ট স্বপ্রণোদিত বা সুয়োমুটো জারি করলে এসপি সোমবার হাইকোর্টে উপস্থিত হয়ে নি:শর্ত ক্ষমা চেয়েছেন। অ্যাডভোকেট শাহ আলম ফারুক বলেন, কুষ্টিয়া এবং সর্বশেষ নওগাঁর ঘটনা বাংলাদেশ একটি পুলিশী রাষ্ট্রে রূপান্তরিত হয়েছে। ভোট জালিয়াতির সরকারের জনগণের চাইতে প্রশাসন নির্ভরতা আজ শুধু সাধারণ মানুষই নয় বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ বিশেষতঃ পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর ক্ষমতার অপব্যবহার ও অব্যাহত দৌরাত্ম্যের শিকার হচ্ছে। এ অবস্থার অবসানে অবিলম্বে কুষ্টিয়ার এসপি ও নওগাঁয় আইনজীবীদের উপর নির্যাতনের জন্য দায়ী পুলিশ সদস্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান এ আইনজীবী।